স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণের অভাবে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে মুন্সিগঞ্জের বধ্যভূমি। এমনকি অনেক বধ্যভূমি শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। জেলার কেন্দ্রীয় বধ্যভূমিসহ মুন্সিগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজ ক্যাম্পাসের দক্ষিণে অবস্থিত বধ্যভূমিটি জেলার কেন্দ্রীয় বধ্যভূমি। যেখানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১৪ ডিসেম্বর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
এছাড়া সদর উপজেলার পাঁচঘড়িয়াকান্দি, সাতানিখীল, কেওয়ার, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর, গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর, গোসাইরচর, বালুরচর, নাগেরচর, কাজিপুরা, প্রধানেরচর, বাশঁগাও, সোনাইরকান্দি, দক্ষিণ ফুলদি গ্রামসহ অনেক জায়গাতেই হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। কিন্তু এ বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি আজও।
২০০৬ সালে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের দেয়া ২০ শতাংশ জায়গার উপর ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় জেলার কেন্দ্রীয় বধ্যভূমি যেখানে ৩৬ জনের লাশ পাওয়া যায়, যখন পরাজিত পাকিস্তানিবাহিনী মুন্সীগঞ্জ ত্যাগ করে। ১৯৭১ সালের ৯ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহরে প্রবেশ করে হরগঙ্গা কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে। মুক্তিযোদ্ধা বা স্বাধীনতাকামী মানুষদের ধরে এনে এখানে নির্যাতন চালাতো। নির্যাতন শেষে তাদের গুলি করে হত্যা করার পর কলেজ ক্যাম্পাসের দক্ষিণ পূর্ব একটি গর্তের মধ্যে লাশগুলো ফেলা হতো।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন ক্যাম্প স্থাপন করতে এই কলেজে আসে তখন আমি এই কলেজের ছাত্রাবাসে থাকতাম। তখন এসব দৃশ্য দেখে চোখের জল ফেলা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। নিরুপায় ছিলাম।’
প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর এখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হলেও বছরের বাকি সময়টা পড়ে থাকে অবহেলিতভাবেই। প্রধান ফটকও সবসময় খোলা থাকে। রাতের অন্ধকারে এখানে চলে মাদক সেবন। শ্রদ্ধার কোনও লেশ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, এখানে মাঝে মাঝে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের বহিরাগত কিছু লোক মারধর করে। কিন্তু তারা বলে তারা নাকি এই কলেজের ছাত্র। কিন্তু তাদের এই কলেজে কখনোও ক্লাস করতে দেখা যায়নি। এখন ছাত্র-ছাত্রীরা ভয় পায় এই বধ্যভূমিতে আসতে।
