ঢাকার খুব কাছের জেলা মুন্সিগঞ্জ। কিন্তু সেই কাছের জেলা যে কতটা দূরের হতে পারে, সেটা ঢাকা থেকে বাসে চড়ে না এলে বোঝা যেত না। জানা হতো না, রাজধানীর এত কাছের একটি জেলার মানুষের প্রধান সমস্যা জেলা সদরের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াত।
ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জে একটিমাত্র কোম্পানির বাস চলে।
দীঘিরপাড় ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড নামের ওই বাস কোম্পানির মালিক টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ওরফে ভুতু। তিনি জেলা সড়ক পরিবহন সমিতিরও সভাপতি। অন্য কোনো কোম্পানির বাস এখানে চলতে গেলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সমিতির অনুমতি লাগে। এমনকি বিআরটিসির শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চালুর এক দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।
মুন্সিগঞ্জের সাধারণ লোকজনের অভিযোগ, কোনো প্রতিযোগিতা নেই বলে সেবা হয়ে গেছে দয়াদাক্ষিণ্যের মতো। টিকিটের টাকায় নিশ্চিত যেটা কেনা হয়, তার নাম আসলে দুর্ভোগ।
কয়েকজন নিয়মিত যাত্রী আফসোস করে বললেন, আগে রাজনীতির লোকেরা খেয়ে না-খেয়ে মানুষের সেবা করতেন। এখন যাঁরা রাজনীতি আর ব্যবসাকে একাকার করে ফেলেছেন; তাঁরা নিজের স্বার্থে জনগণকে কষ্ট দিতেও পিছপা হন না।
রাজধানীর আরেকটি কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকার মধ্যে বিআরটিসির এসি বাসসহ ১০-১২টি কোম্পানির বাস চলে। কিন্তু ব্যতিক্রম মুন্সিগঞ্জ।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানালেন, মুন্সিগঞ্জের এই সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিএনপির নেতাদের মালিকানাধীন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড ছাড়া এই পথে আর কোনো বাস চলত না।
গুলিস্তান থেকে সড়কপথে মুন্সিগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ২৭ কিলোমিটার। প্রায় নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন দাবি করলেন, ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে বাসে এই দূরত্ব পেরোতে গড়ে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। যানজট থাকলে এ সময় আরও বাড়ে। কিন্তু এ সময় একটু আরাম করে বসারও সুযোগ নেই। কারণ দীঘিরপাড় ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের মিনিবাসগুলো এতই ছোট যে পাশাপাশি দুজন যাত্রীর বসাই কষ্ট। এসব মেনেই প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ যাতায়াত করতে হয়।
বাসের পাশাপাশি লঞ্চেও মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন যাত্রীরা। ভোগান্তি আর দূর্ভোগ সেখানেও। মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা রুটে যেসব লঞ্চ চলাচল করে তার চেহারা বাংলাদেশের যে কোন যানবাহনের চেয়েও খারাপ। আর এই লঞ্চগুলির ইঞ্জিন ক্ষমতা এতটাই দূর্বল যে ৩৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় ৭০ থেকে ৮০ মিনিটও। এতো দূর্ভোগ আর নাগরিক সমস্যার কথা দিনের পর দিন নিরবে সয়ে যাচ্ছেন মুন্সিগঞ্জের মানুষ।
