মুন্সিগঞ্জ, ২১ জুন ২০২৫, নিজস্ব প্রতিনিধি (আমার বিক্রমপুর)
মুন্সিগঞ্জ সদরের চরাঞ্চল শিলই ইউনিয়নে ২০২৩ সালের আলোচিত শ্যামল বেপারি (৩৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাদাত বেপারিকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ ও র্যাব-৪ এর যৌথ একটি দল।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরানী বাজার এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুন দিবাগত রাত ২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখি এলাকায় নিজ বসতঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন নিহত শ্যামল বেপারি। রাত ২টার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত বেপারী, ইব্রাহিম বেপারী, তার ভাগিনা হাবিব ও মহিউদ্দিন বেপারীসহ আরও বেশ কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালায়।
এসময় তারা শ্যামলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মর্গে প্রেরণ করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই ইব্রাহিম বেপারি বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে ২০২৩ সালের ২২ জুন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পকারী শাহাদাত বেপারীসহ (৪৫) তিনজনকে একটি বিদেশী পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ টংগিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
বেশ কয়েকমাস জেল খাটার পরে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক হন শাহাদাত বেপারি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আদালত হতে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু হয়। এরই জের ধরে র্যাব অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ট্রলার ঘাটের ইজারা, নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্যামলের নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে শাহাদাতের বিরোধ হয়। এরই জেরে খুন হন শ্যামল বেপারি।
হত্যাকাণ্ডের আগে ২০২৩ ফেব্রুয়ারিতে শাহাদাতের পরিকল্পনায় ও উপস্থিতিতে শ্যামলের ভাইদের স্থানীয় দিঘিরপাড় বাজারে কুপিয়ে জখম করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শ্যামল বাদী হয়ে শাহাদাত ও তার ছেলে মহিউদ্দিনসহ অন্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার পর শাহাদাত আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু তার ছেলে মহিউদ্দিন বেপারী ও তার এক সহযোগী গ্রেপ্তার হন। পরে শাহাদাত ও তার ছেলে আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান।
এ মামলার কারণে আত্মগোপনে থাকার সময়ে শ্যামলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহাদাত বেপারী। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহাদাত আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও ধারালো অস্ত্র সংগ্রহ করে রাখেন। শাহাদাত ১৫-২০ জনসহ গত ১৪ জুন রাত দেড়টার দিকে শ্যামলের বাড়িতে চার দিক থেকে ঘেরাও করে হামলা চালান। তারা ঘরে ঢুকে শ্যামলকে গুলি করে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে গুলি করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিহত শ্যামল বেপারী ২০০৪ সাল থেকে মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ একাধিক দেশে চাকরি করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন কৃষক লীগের সাথে সম্পৃক্ত শাহাদাত বেপারী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য তার ছেলে মহিউদ্দিন বেপারীসহ ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছিলেন।
নিহত শ্যামল বেপারি শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখি গ্রামের মৃত আব্দুল গনি বেপারীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত শাহাদাত বেপারী একই ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি এলাকার মো. শামছুজ্জামান বেপারীর পুত্র।
গ্রেপ্তরকৃত শাহাদাতকে গতকাল রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
